Unknown: Automatic conversion of false to array is deprecated in /home/blooming/boikini.com/storage/modification/catalog/controller/startup/startup.php on line 103 amar rabindronath

Hotline: 017 0707 2323 or 017 0707 2333

amar rabindronath

৳275

‘আমি তো সওদা করিতে আসি না।’—‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের এই কথাটি আকারে ছোট, তবে অর্থে খুবই তাৎপর্যবাহী, বিশেষ করে বর্তমানের পুঁজিবাদী দুনিয়ায়। ‘গল্পগুচ্ছ’ আমরা অনেকেই পড়েছি। কিন্তু হাসান আজিজুল হকের মতো হয়তো পড়িনি। অন্তত তাঁর প্রথম পাঠের যে স্মৃতি, তা হিরণ্ময়। গল্পটি বাস্তবে পড়ছেন তাঁর বাবার চাচাতো ভাই। তিনি শুনছেন। তবে এই শোনাটা আমার মনে হয়েছে পড়ার চেয়ে অনেক বেশি, যতটা না শ্রাব্য তার চেয়ে বেশি দৃশ্য। হাসান লিখেছেন, ‘মাটিতে থেবড়ে বসেছেন চাচা—আমি দুহাতে ভর দিয়ে প্রায় হামাগুড়ির ভঙ্গিতে চাচার মুখের দিকে চেয়ে আছি। গল্পে কাবুলিওয়ালা এলো, জানালার কাছে ছুটে গিয়ে মিনি ডাকল, ‘কাবুলিওয়ালা, ও কাবুলিওয়ালা।’ গল্প এগোচ্ছে যেন মৌমাছি মৌচাকের খুপরিতে খুপরিতে মধু জমা করছে। শেষে যখন কাবুলিওয়ালা তাঁর মেয়ের স্মৃতিচিহ্নটুকু দেখান তখন বাঙালি পাঠকমাত্র আবেগাপ্লুত হয়ে যান। সেই আবেগ কতটা প্রভাব ফেলে পাঠকের মনে, হাসান লিখেছেন, ‘এতক্ষণ ধরে মজফফর চাচা বিড়বিড় করে বেশ করে পড়ছিলেন। এখন দেখছি ওই বুড়ো, প্রায় অশিক্ষিত মানুষটার ভাঙাচোরা মুখ আরো ভাঙাচোরা হয়ে গেছে, পড়াটা আরো ঠেকে ঠেকে হচ্ছে, বুড়োর চোখ দুটি শুকনো। আজ মনে হয়, মানুষ খুব বুড়ো হয়ে গেলে সারা জীবনের কান্না শেষ হয়ে যাওয়ায় চোখ একেবারে শুকনো হয়ে যায়, কিছুতেই পানি বেরোয় না।’ এভাবে হাসান আজিজুল হক ছোটবেলায়, যিনি পরবর্তী সময় ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’-এর মতো শিল্পোত্তীর্ণ গল্প এবং ‘আগুনপাখি’র মতো অনবদ্য উপন্যাস লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, একই সঙ্গে পাঠকদের পরিচিত করাচ্ছেন।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বহুমুখী প্রতিভা, যিনি গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, গান লিখেছেন, সবইতে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন, যাকে মনে করা হয়—পৃথিবীতে চিরকালের জন্য স্মরণীয় মানুষ, তাকে নিয়ে লিখেছেন আমাদের সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। ফলে এই বই এক লেখকের চোখে আরেক লেখকের বন্দনা।‘প্রথম দিনের সূর্য’ কবিতাটি আমরা অনেকে পড়েছি। তবে হাসান পড়ছেন তাঁর মতো করে, তিনি লিখেছেন, ‘তাহলে দেখা যাচ্ছে, জীবনের শুধু শুরু আছে, শেষ পাওয়া যাবে না। আরেকভাবে ভাবলে জীবনের শুরু-শেষ বলে কিছুই নেই। জীবনটা ব্যাখ্যার বিষয় নয়।’রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদার ছিলেন। এ নিয়ে অনেকে নাক সিঁটকানো। অনেক তরুণ, বিশেষ করে মার্ক্সীয় চিন্তায় দীক্ষিত, রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া বলেন। বিষয়টি খোলামেলা আলোচনা করেছেন হাসান। এই প্রসঙ্গে তিনি রাশিয়ার ঔপন্যাসিক তুর্গেনেভের কথা বলেছেন। হাসানের স্পষ্ট কথা, ‘শিল্প কেমন হওয়া উচিত সে কথার চেয়ে শিল্পের ব্যাখ্যা বেশি জরুরি। লেখক কেন বুর্জোয়া বা সামন্তবাদী এই নিয়ে মাথা ঘামানো যেন আমগাছে লিচু ধরছে না বলে আফসোস করা। এ রকম অবস্থায় দুটি রাস্তা খোলা : লেখককে সরাসরি বর্জন, না হলে লেখকের শ্রেণি মানসিকতা ধরে নিয়েই তাঁকে বিচারের চেষ্টা।... বর্জনীয় শনাক্তকরণের পরেও আরো পর্যবেক্ষণ থেকে যায়।’‘আমার রবীন্দ্রযাপন’ বইয়ে হাসান আজিজুল হক সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন ‘গোরা’ উপন্যাসের। বিশেষ করে এই উপন্যাসের মানবিকতাকে। যেখানে গোরা ধর্ম-জাত-পাতের ঊর্ধ্বে উঠে ভারতবর্ষীয় বলে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করে। হাসানের মতে, ‘রবীন্দ্রনাথ গোরায় যা পেরেছেন, তা পৃথিবীর বড় শিল্পীরাই শুধু পেরেছেন। সেই কারণেই সমসাময়িকতা উজিয়ে উপচে সেই জগৎ লাভ করেছে এক আপেক্ষিক চিরন্তনতা, অনেক পথ পেরিয়ে চলে এসেছে ধোঁয়া-বিষে আক্রান্ত বর্তমানেও।’ রবীন্দ্রনাথ যে আজও পাঠের দাবি রাখে, তা আমরা হাসানের এই কথায়ই প্রমাণ পাই। হাসানের চোখে আমাদের রবীন্দ্রনাথ দর্শন অতি চমৎকার ও হৃদয়গ্রাহী। তবে বইটির প্রবন্ধগুলোর উৎস নির্দেশ করা থাকলে পাঠক আরো উপকৃত হতেন। এটিসহ পরবর্তী সংস্করণে শুরুতে যে সাক্ষাৎকারটি রয়েছে তা শেষে আনার প্রস্তাব রাখছি।..

  • Brand: Ittadi Grantho Prokash
  • Product Code: Ittadi
  • Availability: In Stock
  • ISBN: 9789849047889
  • Total Pages: 160
  • Edition: 1st
  • Book Language: Bangla
  • Available Book Formats:Hard Cover
  • Year: 2020
  • Publication Date: 2021-09-18

‘আমি তো সওদা করিতে আসি না।’—‘কাবুলিওয়ালা’ গল্পের এই কথাটি আকারে ছোট, তবে অর্থে খুবই তাৎপর্যবাহী, বিশেষ করে বর্তমানের পুঁজিবাদী দুনিয়ায়। ‘গল্পগুচ্ছ’ আমরা অনেকেই পড়েছি। কিন্তু হাসান আজিজুল হকের মতো হয়তো পড়িনি। অন্তত তাঁর প্রথম পাঠের যে স্মৃতি, তা হিরণ্ময়। গল্পটি বাস্তবে পড়ছেন তাঁর বাবার চাচাতো ভাই। তিনি শুনছেন। তবে এই শোনাটা আমার মনে হয়েছে পড়ার চেয়ে অনেক বেশি, যতটা না শ্রাব্য তার চেয়ে বেশি দৃশ্য। হাসান লিখেছেন, ‘মাটিতে থেবড়ে বসেছেন চাচা—আমি দুহাতে ভর দিয়ে প্রায় হামাগুড়ির ভঙ্গিতে চাচার মুখের দিকে চেয়ে আছি। গল্পে কাবুলিওয়ালা এলো, জানালার কাছে ছুটে গিয়ে মিনি ডাকল, ‘কাবুলিওয়ালা, ও কাবুলিওয়ালা।’ গল্প এগোচ্ছে যেন মৌমাছি মৌচাকের খুপরিতে খুপরিতে মধু জমা করছে। শেষে যখন কাবুলিওয়ালা তাঁর মেয়ের স্মৃতিচিহ্নটুকু দেখান তখন বাঙালি পাঠকমাত্র আবেগাপ্লুত হয়ে যান। সেই আবেগ কতটা প্রভাব ফেলে পাঠকের মনে, হাসান লিখেছেন, ‘এতক্ষণ ধরে মজফফর চাচা বিড়বিড় করে বেশ করে পড়ছিলেন। এখন দেখছি ওই বুড়ো, প্রায় অশিক্ষিত মানুষটার ভাঙাচোরা মুখ আরো ভাঙাচোরা হয়ে গেছে, পড়াটা আরো ঠেকে ঠেকে হচ্ছে, বুড়োর চোখ দুটি শুকনো। আজ মনে হয়, মানুষ খুব বুড়ো হয়ে গেলে সারা জীবনের কান্না শেষ হয়ে যাওয়ায় চোখ একেবারে শুকনো হয়ে যায়, কিছুতেই পানি বেরোয় না।’ এভাবে হাসান আজিজুল হক ছোটবেলায়, যিনি পরবর্তী সময় ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’-এর মতো শিল্পোত্তীর্ণ গল্প এবং ‘আগুনপাখি’র মতো অনবদ্য উপন্যাস লিখেছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন, একই সঙ্গে পাঠকদের পরিচিত করাচ্ছেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো বহুমুখী প্রতিভা, যিনি গল্প, উপন্যাস, কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, গান লিখেছেন, সবইতে ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছেন, যাকে মনে করা হয়—পৃথিবীতে চিরকালের জন্য স্মরণীয় মানুষ, তাকে নিয়ে লিখেছেন আমাদের সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। ফলে এই বই এক লেখকের চোখে আরেক লেখকের বন্দনা।
‘প্রথম দিনের সূর্য’ কবিতাটি আমরা অনেকে পড়েছি। তবে হাসান পড়ছেন তাঁর মতো করে, তিনি লিখেছেন, ‘তাহলে দেখা যাচ্ছে, জীবনের শুধু শুরু আছে, শেষ পাওয়া যাবে না। আরেকভাবে ভাবলে জীবনের শুরু-শেষ বলে কিছুই নেই। জীবনটা ব্যাখ্যার বিষয় নয়।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদার ছিলেন। এ নিয়ে অনেকে নাক সিঁটকানো। অনেক তরুণ, বিশেষ করে মার্ক্সীয় চিন্তায় দীক্ষিত, রবীন্দ্রনাথকে বুর্জোয়া বলেন। বিষয়টি খোলামেলা আলোচনা করেছেন হাসান। এই প্রসঙ্গে তিনি রাশিয়ার ঔপন্যাসিক তুর্গেনেভের কথা বলেছেন। হাসানের স্পষ্ট কথা, ‘শিল্প কেমন হওয়া উচিত সে কথার চেয়ে শিল্পের ব্যাখ্যা বেশি জরুরি। লেখক কেন বুর্জোয়া বা সামন্তবাদী এই নিয়ে মাথা ঘামানো যেন আমগাছে লিচু ধরছে না বলে আফসোস করা। এ রকম অবস্থায় দুটি রাস্তা খোলা : লেখককে সরাসরি বর্জন, না হলে লেখকের শ্রেণি মানসিকতা ধরে নিয়েই তাঁকে বিচারের চেষ্টা।... বর্জনীয় শনাক্তকরণের পরেও আরো পর্যবেক্ষণ থেকে যায়।’
‘আমার রবীন্দ্রযাপন’ বইয়ে হাসান আজিজুল হক সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন ‘গোরা’ উপন্যাসের। বিশেষ করে এই উপন্যাসের মানবিকতাকে। যেখানে গোরা ধর্ম-জাত-পাতের ঊর্ধ্বে উঠে ভারতবর্ষীয় বলে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করে। হাসানের মতে, ‘রবীন্দ্রনাথ গোরায় যা পেরেছেন, তা পৃথিবীর বড় শিল্পীরাই শুধু পেরেছেন। সেই কারণেই সমসাময়িকতা উজিয়ে উপচে সেই জগৎ লাভ করেছে এক আপেক্ষিক চিরন্তনতা, অনেক পথ পেরিয়ে চলে এসেছে ধোঁয়া-বিষে আক্রান্ত বর্তমানেও।’ রবীন্দ্রনাথ যে আজও পাঠের দাবি রাখে, তা আমরা হাসানের এই কথায়ই প্রমাণ পাই। হাসানের চোখে আমাদের রবীন্দ্রনাথ দর্শন অতি চমৎকার ও হৃদয়গ্রাহী। তবে বইটির প্রবন্ধগুলোর উৎস নির্দেশ করা থাকলে পাঠক আরো উপকৃত হতেন। এটিসহ পরবর্তী সংস্করণে শুরুতে যে সাক্ষাৎকারটি রয়েছে তা শেষে আনার প্রস্তাব রাখছি।

Write a review

Note: HTML is not translated!
    Bad           Good