ekjon maya,ojosro modhuchondrima
জেসমিন চৌধুরী আপুর দু'টো বই পড়লাম। "একজন মায়া অজস্র মধুচন্দ্রিমা" এবং "উড়াল"। মূলত একটা উপন্যাসের দু'টো পার্ট এ দু'টো বই ভিন্ন নামকরনে। প্রথম পার্ট - "একজন মায়া অজস্র মধুচন্দ্রিমা", দ্বিতীয় পার্ট- "উড়াল"। সবাই বহু আগেই বইগুলো সম্পর্কে দারুন দারুন রিভিউ দিয়েছে। আমার মতামত দিতে বেশ খানিকটা দেরি হয়ে গেলো। এত গুণী লেখিকা, এত সুন্দর বই নিয়ে রিভিউ দেয়ার সাহস হয়তো আমার হতোনা, কিন্তু আপু যেহেতু নিজেই বলেছেন আমি নাকি দারুন রিভিউ লিখি এবং তার বই পড়ে যেন রিভিউ দেই, তাই কিছুটা সাহস পেলাম। আগেই বলে নিচ্ছি, আমার মনের পুরো অনুভূতি আমি কখনো লিখে প্রকাশ করতে পারিনা। বইগুলো যতোটা প্রশংসার দাবিদার কিংবা যতোটা আমার ভাললেগেছে, ততোটা আমি রিভিউতে বলতে পারবোনা।বইয়ের প্রতিটা লাইন জুড়ে মুগ্ধতা। লেখিকা বই লিখে কতোটা সন্তুষ্ট নিজের ওপর জানিনা, তবে আমি বোধয় শতভাগই সন্তুষ্ট একজন পাঠক হিসেবে। কিছুটা পড়লেই বোঝা যায় লেখিকা কতোটা পারদর্শী জীবনের গল্প বলাতে। বই দু'টোতে একজন সিলেটী নারী লন্ডনে গিয়ে কি পরিমাণ নির্মমতার শিকার হয় স্বামীর সংসারে এবং কতোটা সংগ্রাম করে সেখান থেকে উঠে আসে, সে গল্পই বলা হয়েছে।গল্পটা পুরোপুরি বাস্তব। লেখিকা জীবনে এত ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন, প্রতিটা ঘটনাই যেন এক একটা গল্প। তাই তাকে গল্প লেখার জন্য কখনো কল্পনার আশ্রয় নিতে হয়না। গল্পের মূল চরিত্র মায়া। তবে প্রতিটা চরিত্রের উপস্থিতি লেখিকা এত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, আমি প্রতিটা চরিত্রকেই ভালবেসে ফেলেছি। বইটা পড়ে আমাদের সমাজের অবহেলিত মেয়েরা ভীষনরকম অনুপ্রানীত হবে। ভেঙে মুষড়ে পড়া মেয়েটাও ডানা মেলে ওড়ার শক্তি পাবে। যার জীবন অন্ধকারে তলিয়ে গেছে, সেও নতুন করে আলোর সন্ধান করতে পারবে, মরার আগে আরো একটাবার বাঁচার মতো বাঁচার চ্যালেঞ্জ নেয়ার সাহস দেখাবে। সারাজীবন খাঁচায় বন্দী থাকা বাঙালী মেয়েরাও একটাবার সমস্ত শক্তি দিয়ে খাঁচা ভেঙে ওড়ার চেষ্টা করবে, এতোটাই অনুপ্রেরনা আছে লেখিকার লেখনীতে। নিজের ভেতর সুপ্ত প্রতিভা, কিছু একটা করে দেখানোর ক্ষমতা যা মরচে পড়ে গেছে শেঁকলে বাঁধা থাকতে থাকতে তা নতুন করে উন্মোচিত হবে। একটা মেয়েও মানুষ, সে কারো দাসত্ব করার জন্য পৃথিবীতে জন্মায়নি, তার নিজের ব্যক্তিগত মতামত আছে, স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার আছে, এসব ব্যাপারে ভাবার এবং শিঁরদাঁড়া সোজা করে বাঁচার জন্য অনুপ্রানীত করে লেখাগুলো।বইয়ের ভেতর গল্পের প্রয়োজনে প্রচুর ইংলিশ বাক্য লেখা হয়েছে। কেও যদি মনোযোগ দিয়ে বইটা পড়ে, সে গল্পচ্ছলে খুব সহজবোধ্যভাবে অনেক ইংলিশ বাক্য শিখতে পারবে, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাধারন কনভারশেসনের মধ্যে পড়ে। আমি প্রতিটা ইংলিশ বাক্য দাগিয়ে রেখেছি, নতুন নতুন শব্দ দাগিয়ে রেখেছি, যে লাইন বা ঘটনা মনকে নাড়া দিয়ে গেছে সেসবও দাগিয়ে রেখেছি। লন্ডনের উন্নত শৃঙ্খল জীবনধারা সম্পর্কে অনেককিছু জেনেছি এবং এতোটা মুগ্ধ ও অবাক হয়েছি যে, ইচ্ছে করছিলো সারাজীবনের জন্য সেখানে সেটেল হয়ে যাই। লন্ডনের জীবনটা বাংলাদেশে বসে স্বপ্নের মতো স্বর্গের মতো মনে হচ্ছে সত্যিই। সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য এবং প্রকৃত মানুষ হয়ে বাঁচার জন্য একটা দেশের কত সুন্দর নিয়মকানুন থাকতে পারে, বইগুলো পড়ে অনেকটা জেনেছি, আরো অনেক বেশি জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বইয়ের এমন অনেক জায়গা আছে, যে অংশটুকু পড়ে বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠেছে। যেমন- ড্যানি যখন শেষবারের মতো মায়াকে বাসায় ছেড়ে দেয়, মায়া যখন বুঝতে পারে ড্যানি তার জীবনে শূন্য জানালা দিয়ে হঠাৎ ঢুকে পড়া এক টুকরো ঝোড়ো হাওয়ার মতো যা কিনা তাকে ছোঁবার আগেই হারিয়ে গেছে; এ অংশটুকু পড়ে খুব খারাপ লেগেছে।আমাদের সমাজের প্রতিটা মায়াকে ডানা মেলে উড়তে হবে, বেঁচে থাকার জন্য সেটা অত্যন্ত জরুরি। আমি চিরকাল ডানা মেলে ওড়ার পক্ষে, তোমার গল্প পড়ে আমার সাহসের ঝুলিতে সঞ্চয় খানিকটা বেড়ে গেলো। প্রতিটা মেয়েকে শূন্য থেকেই নিজেকে পরিপূর্ণ জীবন দিতে হবে। নিজে না চেষ্টা করলে, এ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ কখনোই হাতে তুলে দেবেনা সে জীবন। হাওয়া তো শূন্যই থাকে, তবু সে হাওয়ার জোড়েই তো বেলুন আকাশে ওড়ে। সে জোড়টাই দরকার আমাদের বাঁচার জন্য। একবার বাঁচার চেষ্টা করলে অনেক সাহায্যের হাত এগিয়ে আসবে, মায়ার জীবনে যেমন এসেছিলো অনেকে। শুধু নিজেকে সাহস করে উঠে দাঁড়াতে হবে, বাকিটা পথ হাঁটার জন্য অনেক শুভাকাঙ্খী পাওয়া যাবে পাশে। সমগ্র গল্পটা নিয়ে আমি তেমন কিছু বলতে চাইনা। আমি চাই, পাঠক পুরোটা পড়ে জানুক বুঝুক উপলব্ধি করুক। এত বড় একটা গল্প শেষ করার পরও মনে হচ্ছিলো, আরো অনেকদিন ধরে পড়তে পারতাম যদি, গল্পটা যদি আরো অনেক বড় হতো! জেসমিন আপু, আমি তোমার লেখার গুণমুগ্ধ পাঠক, এ তুমি জানো। তোমার বই পড়ে আরো বেশি এডিকটেড হয়ে গেলাম তোমার প্রতি। তুমি ভালো থেকো, বেঁচে থাকুক তোমার জীবন দর্শন। তোমার নতুন বইয়ের অপেক্ষায় রইলামবিঃদঃ খুব দুঃখের সাথে জানাচ্ছি আপু, বেশ বড় করে রিভিউ লিখেছিলাম। পুরোটা ডিলেট হয়ে গেলো। মেজাজ খারাপ নিয়ে আবার ছোট করে লিখলাম। সন্তুষ্ট হতে পারলামনা। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখো..
- Brand: SHOBDOSHOILY
- Product Code: shobdoshoily
- Availability: In Stock
- ISBN: 9789849344612
- Total Pages: 110
- Edition: 1st
- Book Language: Bangla
- Available Book Formats:Hard Cover
- Year: 2018
- Publication Date: 2021-09-19
