Gunogoto Oviman
৳150
৳200
জুনায়েদ খানের অনেক পরিচয়। এর মধ্যে গল্পকার পরিচয়টাকেই আমি বড় করে দেখি। গল্পে আটকে রাখার কৌশল সে দারুণভাবে রপ্ত করেছে। তার গল্পে একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। একটা ঘোর তৈরি হয়। সম্ভবত জুনায়েদের গল্প আমিই সবচেয়ে বেশি পড়েছি কিংবা না পড়ে থাকতে পারি নি! তার বর্ণনার সাবলীলতা প্রবলভাবে টানে। উপমা ব্যবহারের পারঙ্গমতা মুগ্ধ করে। যেমন ‘গুণগত অভিমান’ গল্পে বাবা মারা যাওয়ার অসহায়ত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছে, ‘তীব্র ঝড়ে ঘরের চালা উড়ে গেলে যেমন শূন্য শূন্য লাগে, আমার তেমন শূন্য শূন্য লাগতো।’ কিংবা কল্পনার আকাশে ভাসিয়ে নিতে লিখেছে- ‘বৃষ্টিতে সমুদ্র যে এতো মোহ ছড়ায় জানা ছিল না। কত আয়োজন করেই না নোনা জলের সাথে মিঠে জল মিশে যাচ্ছে! নাকি মিশতে বাধ্য হচ্ছে? মিঠে মানুষের সাথেও কি নোনা মানুষ এভাবে মিশে যায়? যায় না বোধহয়! গেলে চন্দ্রও আমার সাথে মিশে যেত!’ আবার হিউমারের সূক্ষ্ম প্রয়োগ তার গদ্যকে রসালো করে তুলেছে। ‘রেবেকা‘গল্পে যেমন করে বলেছে, ‘আনাস বলতো, রেবেকা বদলে গেছে। রেবেকা বলতো বদলেছে আনাস। তারপর একদিন বদলাবদলির বদপ্যাঁচে ওদের ব্রেকআপই হয়ে গেল!’ আগের গল্পগুলোর সঙ্গে এ বইয়ের গল্পগুলোর কিছু তফাৎ ধরা পড়েছে। ঘটনা বর্ণনায় আরও পরিপক্ক হয়েছে জুনায়েদ খানের হাত। কাহিনির গভীরতা ও বিষয়-বৈচিত্রও বেড়েছে ঢের। সুপারন্যাচারাল বা প্যারানরমাল বিষয়েও হাত মশকো হচ্ছে তার। যেটা গল্প-পাঠকদের জন্য আনন্দের। গুণগত এই পরিবর্তন ‘গুণগুত অভিমান -এর মান অনেকটাই বাড়িয়েছে, এ কথা বলতেই হচ্ছে। - সোহেল নওরোজ ..
- Brand: PORIBAR PUBLICATIONS
- Product Code: 9422716
- Availability: In Stock
- Author Name: Junaeid Khan ,
- ISBN: 9789849422716
- Total Pages: 96
- Edition: 1st
- Book Language: Bangla
- Available Book Formats:Hard Cover
- Year: 2020
Tags: Gunogoto Oviman
জুনায়েদ খানের অনেক পরিচয়। এর মধ্যে গল্পকার পরিচয়টাকেই আমি বড় করে দেখি। গল্পে আটকে রাখার কৌশল সে দারুণভাবে রপ্ত করেছে। তার গল্পে একবার ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। একটা ঘোর তৈরি হয়। সম্ভবত জুনায়েদের গল্প আমিই সবচেয়ে বেশি পড়েছি কিংবা না পড়ে থাকতে পারি নি! তার বর্ণনার সাবলীলতা প্রবলভাবে টানে। উপমা ব্যবহারের পারঙ্গমতা মুগ্ধ করে। যেমন ‘গুণগত অভিমান’ গল্পে বাবা মারা যাওয়ার অসহায়ত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছে, ‘তীব্র ঝড়ে ঘরের চালা উড়ে গেলে যেমন শূন্য শূন্য লাগে, আমার তেমন শূন্য শূন্য লাগতো।’ কিংবা কল্পনার আকাশে ভাসিয়ে নিতে লিখেছে- ‘বৃষ্টিতে সমুদ্র যে এতো মোহ ছড়ায় জানা ছিল না। কত আয়োজন করেই না নোনা জলের সাথে মিঠে জল মিশে যাচ্ছে! নাকি মিশতে বাধ্য হচ্ছে? মিঠে মানুষের সাথেও কি নোনা মানুষ এভাবে মিশে যায়? যায় না বোধহয়! গেলে চন্দ্রও আমার সাথে মিশে যেত!’ আবার হিউমারের সূক্ষ্ম প্রয়োগ তার গদ্যকে রসালো করে তুলেছে। ‘রেবেকা‘গল্পে যেমন করে বলেছে, ‘আনাস বলতো, রেবেকা বদলে গেছে। রেবেকা বলতো বদলেছে আনাস। তারপর একদিন বদলাবদলির বদপ্যাঁচে ওদের ব্রেকআপই হয়ে গেল!’
আগের গল্পগুলোর সঙ্গে এ বইয়ের গল্পগুলোর কিছু তফাৎ ধরা পড়েছে। ঘটনা বর্ণনায় আরও পরিপক্ক হয়েছে জুনায়েদ খানের হাত। কাহিনির গভীরতা ও বিষয়-বৈচিত্রও বেড়েছে ঢের। সুপারন্যাচারাল বা প্যারানরমাল বিষয়েও হাত মশকো হচ্ছে তার। যেটা গল্প-পাঠকদের জন্য আনন্দের। গুণগত এই পরিবর্তন ‘গুণগুত অভিমান -এর মান অনেকটাই বাড়িয়েছে, এ কথা বলতেই হচ্ছে।
- সোহেল নওরোজ
আমি জুনায়েদ খান। বাবা জাফর উল্লাহ খান, মা মোছা. শিউলী খাতুন। জন্মেছি উত্তরের জেলা রংপুরে। শৈশব কৈশোরের পুরোটাই কেটেছে ছবির মতো গ্রাম গঙ্গারামপুর আর শান্তির শহর পীরগঞ্জে। তারপর ছাত্রজীবনের প্রায় অর্ধযুগ কেটে গেছে ব্রহ্মপুত্রের পাড় ঘেঁষা সবুজস্বর্গ- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মজীবনটাও বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক। ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছি। এর মাঝে টুকটাক লেখালেখিও করছি। নেশা বা পেশা হিসেবে নয়, মনের তাড়না থেকেই লিখি। সাহিত্যের মানদন্ডে কখনো মেপে দেখা হয়নি লেখাগুলো। মাপতেও চাই না। পাঠক আপনমনের কাল্পনিক নিক্তিতে মেপে নিক নিজের মতো করে। পত্রিকার সাহিত্যপাতার এক কোণে নিজের নাম মাঝেমাঝে দেখা গেলেও বইমেলায় প্রকাশিত প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘বিবর্ণ চিরকুট’- এর পাঠকপ্রিয়তা অনুপ্রাণিত করছে নিয়মিত লেখালেখিতে। মুগ্ধ পাঠকের ভালোবাসাটুকু সম্বল করেই স্বপ্নমূখর এক অনভুতিতে ডুবে থাকতে চাই আমৃত্যু।প্রকাশিত গ্রন্থ:বিবর্ণ চিরকুট (বইমেলা ২০১৮) মিথ্যে পাখি (বইমেলা ২০১৯) গুণগত অভিমান (বইমেলা ২০২০)

